মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২২nd জুন ২০১৭

এফটিএ অনুবিভাগ

 

আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এফটিএ উইং এর কার্যক্রম

 

ইংরেজীতে বিস্তারিত কার্যক্রম দেখতে এখানে ক্লিক করুন

 

এফটিএ অনুবিভাগ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুবিভাগ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশের অবস্থান সুদূঢ় করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কূটনীতির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনসহ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন, শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, অশুল্কবাধা দূরীকরণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রেড ফোরামের নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সংরক্ষণে এফটিএ অনুবিভাগ কাজ করে থাকে। 
 
    এফটিএ অনুবিভাগের সার্বিক কার্যক্রম নিম্নরূপ: 
 

 

  • ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মায়ানমার, ভূটান ও নেপাল এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সংক্রান্ত সকল কার্যাবলী।
  • সাফটা (সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া), সাপটা (সার্ক প্রিফারেনশিয়াল ট্রেডিং এরেনজমেন্ট), আপটা (এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট),সাসেক (সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনোমিক কো-অপারেশন), আইওআরএ (ইন্ডিয়ান ওশেন রিম এশোসিয়েশন)।
  • বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভস ফর মাল্টিসেক্টরাল এ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন) সংক্রান্ত সকল বিষয়াদি।
  • বিশ্ব ব্যাংক , এডিবি, আইডিবি, আইএফসি, আইএমএফ  সংক্রান্ত সকল বিষয়াদি ;
  • সিএফসি (কমন ফান্ড ফর কমোডিটিস),ইসি (ইউরোপিয়ান কমিশন), আংকটাড (United Nations Conference on Trade and Development),
  • আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশন) আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশন)
  • বিএফটিআই(বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনটিউট)সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়াদি;
  • UNESCAP ( United Nations Economic and Social Commission for Asia and the Pacific) সংক্রান্ত  সকল  বিষয়াদি;
  • COMCEC (Standing Committee on Economic and Commercial Co-operation of OIC), TPS-OIC (Trade Preference System among OIC), 
  • আইসিডিটি (ইসলামিক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব ট্রেড) ডি-৮, জি-৭ ও জি-৭৭ সংক্রান্ত  যাবতীয় বিষয়াদি;
  • জিএসপি (Generalised System of Preference),
  • জিএসটিপি (Global System of Trade Preference),
  • রুলস্  অব অরিজিন ও সার্ক কিউমুলেশন  সংক্রান্ত  যাবতীয় বিষয়াদি;
  • বৈদেশিক বিনিয়োগ, ট্রেড ফেসিলেটেশন ও টিএফটি  সংক্রান্ত  যাবতীয় বিষয়াদি;
  • বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংরক্ষণ  ও ব্যবস্থাপনা ; এবং
  • বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন সংক্রান্ত বিষয়াদি।

আঞ্চলিক বাণিজ্য: 

১।     দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য এলাকা চুক্তি (SAFTA):  দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ নিয়ে ২০০৬ সালের ০১ জুলাই থেকে সার্ক-ভুক্ত দেশসমূহের সমন্বয়ে গঠিত দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য এলাকা চুক্তি South Asian Free Trade Area (SAFTA) কার্যকর হয়। SAFTA-এর আওতায় সদস্য দেশসমূহের মধ্যে অশুল্ক বাধা দূরীকরণসহ সেনসিটিভ লিস্টের পণ্য তালিকা এবং শুল্ক হ্রাসকরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সর্বশেষ, সদস্য দেশসমূহ তাদের সেনসিটিভ লিস্ট দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০% হ্রাস করেছে, যা ০১ জানুয়ারি ২০১২ থেকে কার্যকর হয়েছে। এছাড়া, ভারত বাংলাদেশসহ সার্ক-ভুক্ত স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে ২৫টি পণ্য ছাড়া বাকি সব পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা প্রদান করেছে। ফলে ভারতসহ সার্ক-ভুক্ত দেশসমূহে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধিসহ বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের সেনসিটিভ লিস্টে পণ্যের সংখ্যা স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য ৯৮৭টি এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য ৯৯৩টি। SAFTA-এর আওতায় তৃতীয় পর্যায়ে সদস্য দেশসমূহের সেনসিটিভ লিস্ট আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডাদের সাথে আলোচনা চলছে। 

২।     সার্ক এগ্রিমেন্ট অন ট্রেড ইন সার্ভিসেস (SATIS): ২৯ এপ্রিল ২০১০ তারিখে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত ১৬তম সার্ক সামিটে সার্ক সদস্য দেশসমূহের অংশগ্রহণে সার্ক এগ্রিমেন্ট অন ট্রেড ইন সার্ভিসেস (SATIS) স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশসহ সদস্য দেশসমূহ এ চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে প্রাথমিক অফার লিস্ট ও রিকোয়েস্ট লিস্ট বিনিময় করেছে। বাংলাদেশ সাটিস এর সদস্য দেশসমূহের নিকট ১০টি সার্ভিস সেক্টর উন্মুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এবং ০২টি সার্ভিস সেক্টরে অফার দিয়ে (টেলিকম ও ট্যুরিজম) এ সংক্রান্ত শিডিউল অব কমিটমেন্টস্ ইতোমধ্যে দাখিল করেছে। সদস্য দেশসমূহের শিডিউল অব কমিটমেন্টস চূড়ান্ত করার  লক্ষ্যে নেগোসিয়েশন অব্যাহত আছে।  চুক্তিটি বাস্তবায়িত  হলে সেবা  খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ এ খাতে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।  

৩।    এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট (APTA): ১৯৭৫ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে এ অঞ্চলের সর্বপ্রথম প্রাধিকারযোগ্য (preferential) বাণিজ্য চুক্তি 'Bangkok Agreement' স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে Bangkok Agreement পুনর্গঠন করে 'Asia-Pacific Trade Agreement (APTA)' স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক বাণিজ্য উদারীকরণের মাধ্যমে সদস্য দেশসমূহের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি। APTA-এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬ (ছয়)টি দেশ, যথা: বাংলাদেশ, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলংকা এবং লাওস। বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। 

    APTA-এর আওতায় ৩য় রাউন্ড নেগোসিয়েশন ২০০৬ সালে সম্পন্ন হয়েছে যা এখনো কার্যকর আছে। ইতোমধ্য APTA-এর আওতায় ৪র্থ রাউন্ড নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে যা গত ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত মিনিস্টিরিয়াল কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে। ৪র্থ রাউন্ড নেগোসিয়েশনের আওতায় শুল্ক সুবিধা প্রাপ্ত পণ্য সংখ্যা ৪,৬৪৮ থকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০,৬৭৭-এ তে উন্নীত হবে, যা বাস্তবায়িত হলে APTA-এর সদস্য দেশসমূহের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সদস্য দেশসমূহে উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং SDG অর্জনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে APTA-এর সদস্য দেশসমূহে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য অধিকতর শুল্ক সুবিধা এবং market access পাবে যার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা যায় এবং তা বাংলাদেশের 'রূপকল্প ২০২১' অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ৪র্থ রাউন্ড নেগোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্য তারিখ ০১ জুলাই ২০১৭ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ট্যারিফ কনসেশন ছাড়াও আপটার আওতায় Trade Facilitation, Investment Protection এবং Liberalization of Trade in Services বিষয়ে ৩টি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিগুলি বাস্তবায়িত হলে আপটার সমস্য দেশসমূহের সাথে সেবা খাতে বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। 

৪।    Trade Preferential System among the Member States of the OIC )TPS-OIC): তুরস্কের ইস্তান্বুলে অনুষ্ঠিত COMCEC এর ৬ষ্ঠ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক  ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের সংগঠন ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (OIC) সদস্যভূক্ত দেশসমূহের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে  Framework Agreement on Trade Preferential System among the Member States of the OIC (TPS-OIC) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।  ২০০২ সালে ১০টি OIC ভূক্ত দেশ অনুসমর্থন করার পর Framework Agreement কার্যকর হয় । পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতায় ০২ টি চুক্তি-The Protocol on Preferential  Tariff  Scheme (PRETAS) এবং Rules Of Origin (RoO)  চুড়ান্ত হয়। উক্ত  ০৩টি চুক্তিতেই বাংলাদেশ স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করেছে।

         PRETAS এর উদ্দেশ্য হলো এ কর্মপরিকল্পনার আওতাভূক্ত পণ্যসমূহের শুল্ক হ্রাসকরণ, প্যারা ট্যারিফ  ও নন ট্যারিফ বাধা দূরীকরণ । স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে বাংলাদেশ শুল্ক হ্রাসকরণ প্রক্রিয়া, প্যারা ট্যারিফ ও নন ট্যারিফ বাধা অপসারণের  ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সুবিধা পাবে ।  বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ২৫-২৮ নভেম্বর ২০১৪ তারিখ অনুষ্ঠিত TPS-OIC-এর The standing Committee and Commercial Cooperation এর ৩০তম সেশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক HS 2012 Version অনুযায়ী ৪৪০টি পণ্যের Offer List COMCEC Coordination Office-এ প্রেরণ করছে। এছাড়া ও Country  of Origin সার্টিফিকেট স্বাক্ষরকারী সরকারী কর্মকর্তার নাম, পদবী ও নমুনা স্বাক্ষর এবং মুদ্রিত সংশ্লিষ্ট ফরম প্রেরণ করা হয়েছে। OICভুক্ত সকল রাষ্ট্র চুক্তিটি অনুসমর্থনের পর এটি কার্যকর হবে। TPS-OIC কার্যকর হলে স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে রুলস অব অরিজিনের (৩০% ভ্যালু এডিশন) সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অন্যান্য সদস্য দেশে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সমর্থ হবে। বাংলাদেশী রপ্তানীকারকগণ সুনির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে চুক্তির আওতাভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবেন । এর ফলে TPS-OIC চুক্তিভূক্ত দেশসমূহে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার তৈরি ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া OIC- এর বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণের ফলে প্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা প্রাপ্তি, TPS-OIC বাস্তবায়নসহ OIC-ভূক্ত দেশসমূহের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে গৃহীত উদ্যোগে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত আছে।

৫।     ডেভেলপিং-৮ (D-8): বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, মিশর ও নাইজেরিয়া এর সমন্বয়ে  Developing-8 (D-8) গঠিত । D-8 ভূক্ত দেশসমূহের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষে D-8 Preferential Trade Agreement (PTA) সম্পাদন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সদস্য দেশসমূহের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশসমূহের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ D-8 Preferential Trade Agreement (PTA) স্বাক্ষর করে। কিন্তু উক্ত PTAএর Rules of Origin-এ ৪০ শতাংশ মূল্যসংযোজন শর্ত থাকায় এবং বাংলাদেশের জন্য তা সুবিধাজনক বিবেচিত না হুওয়ায় বাংলাদেশ D-8 PTA ইতিপূর্বে অনুসমর্থন করেনি। চুক্তিটি অনুসমর্থনের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্টেক হোল্ডারদের সমন্বয়ে সভা আহবানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

৬।    দি বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল এন্ড ইকনোমিক কো-অপারেশন (BIMSTEC):  বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, ভুটান ও নেপাল এর সমন্বয়ে ১৯৯৭ সালে Bay of Bengal Initiatives for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation (BIMSTEC) আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গঠিত হয়। এ জোটের আওতায় বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (FTA) গঠনের লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারি ২০০৪ একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় (১) পণ্য বাণিজ্য, (২) সেবা খাতের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের উপর বর্তমানে আলোচনা চলছে। চুক্তিতে যে ১৩টি সেক্টর/সার-সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা হল: (1) Trade and Investment, (2) Technology, (3) Energy, (4) Transport and Communication, (5) Tourism, (6) Fishery, (7) Agriculture, (8) Cultural Cooperation, (9) Environment and Disaster Management, (10) Public Health, (11) People to People Contact, (12) Poverty Alleviation, (13) Counter Terrorisms and Transnational Crime, এবং (14) Climate Change. 
    
    এই চুক্তির অধীনে (1) Agreement on Trade in Goods, (2) Agreement of Trade in Services, (3) Agreement on Trade in Investment, (4) Agreement on Cooperation and Mutual Assistance in Customs Matters, (5) Protocol to Amend the Framework Agreement on the BIMSTEC Free Trade Area, (6) Agreement on Dispute Settlement Procedures and Mechanism চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিসমটেক এর আওতায় শুল্ক হ্রাস প্রক্রিয়া কার্যকর করার ক্ষেত্রে ফাস্ট ও নরমাল ট্র্যাক পন্থা গ্রহণ করা হয়। ফাস্ট ট্র্যাক এর আওতায় নির্বাচিত পণ্যসমূহের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশসমূহ (ভারত, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ড)  স্বল্পোন্নত (বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান) দেশসমূহের জন্য এক বছরের মধ্যে এবং উন্নয়নশীল  দেশসমূহের জন্য তিন বছরের মধ্যে  শুল্ক হ্রাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। অন্যদিকে, ফাস্ট ট্র্যাকে অন্তর্ভুক্ত পণ্যসমূহের উপর স্বল্পোন্নত দেশসমূহ উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য পাঁচ বছরের মধ্যে এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য তিন বছরের মধ্যে শুল্ক হ্রাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। নরমাল ট্র্যাক এর আওতায় নির্বাচিত পণ্যসমূহের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশসমূহ স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য তিন বছরের  মধ্যে এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য পাঁচ বছরের মধ্যে শুল্ক হ্রাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। অপরদিকে, নরমাল ট্র্যাক এর আওতায়  স্বল্পোন্নত দেশসমূহ উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য দশ বছরের মধ্যে এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য আট বছরের মধ্যে শুল্ক হ্রাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন  করবে। বিমসটেক এর সচিবালয় ঢাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ০১ মে ২০১৪ তারিখ থেকে উক্ত সচিবালয় কাজ শুরু করবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 

৭.০    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ):  বাংলাদেশের সাথে কোন দেশের দ্বিপাক্ষিক এফটিএ নেই। বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক এফটিএ গঠনের লক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত এফটিএ পলিসি গাইডলাইনস্-২০১০ গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখ যথাযথ কর্তৃপক্ষ  কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। উক্ত পলিসি গাইডলাইনস্ এর ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সাথে এফটিএ গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তুরস্কের সাথে দ্বিপাক্ষিক এফটিএ গঠনের লক্ষে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়াও মালয়েশিয়া, চীন, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, মালি, মেসিডোনিয়া, মরিতাস, জর্ডান ও জিসিসি-দেশসমূহের সাথে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)/ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি অক্টোবর ২০১৬ চীনের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশ-চীন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। 


দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য:

    বাংলাদেশ ভারত সামান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জনসাধারন, যাদের নিকটবর্তী কোন হাট-বাজার নেই, তাদের নিকট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে বর্ডার হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই উদ্দেশ্যে ২২ অক্টোবর ২০১০ তারিখে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বর্ডার হাট স্থাপন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের (এম.ও.ইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় ১৮ জুলাই ২০১১ তারিখ কুড়িগ্রাম সীমান্তে বালিয়ামারিতে প্রথম এবং ০১ মে ২০১২ তারিখে সুনামগঞ্জের ডলারোতে দ্বিতীয়, ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার পূর্ব মধুগ্রাম ও ছয়ঘড়িয়ার মধ্যবর্তী স্থানের সীমান্তে তৃতীয়, এবং ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার তারাপুর সীমান্তে চতুর্থ বর্ডার হাট চালু করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকার লোকজন তাদের পণ্য সহজে বেচা-কেনা করতে পারছে, এবং ইনফরমাল বাণিজ্য অনেকাংশে-হ্রাস পাবে। এছাড়া বাংলাদেশ-ত্রিপুরা সীমান্তে আরও ০৪টি এবং মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলা ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ২টি বর্ডার হাট স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে। 

    এছাড়াও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষে ২৮ মার্চ ১৯৭২ তারিখ স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের সুবিধা রেখে গত ৬ জুন ২০১৫ তারিখ পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। শ্রীলংকার সাথে ১৯৭৭ সালে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি এখনও বলবদ আছে। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। 

    ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফরকালে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি বাণিজ্য চুক্তি  ও এতদসংক্রান্ত  প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত চুক্তি ও প্রটোকল বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ ও ভুটানের পণ্য পারস্পরিক শুল্কমুক্ত  প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। বর্তমানে বুড়িমারি ও তামাবিল ছাড়াও নকুগাঁও ও হালুয়াঘাট স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্য চলছে। এছাড়া বাংলাদেশ প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ভূটান ফ্রেমওয়ার্ক ট্রানজিট এগ্রিমেন্টের খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে যুগ্ম-সচিব পর্যায়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ মিয়ানমার জয়েন্ট ট্রেড কমিশনের ৭টি সভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪-১৫ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মিয়ানমারে ৭ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভাসমূহে ব্যাংকিং চ্যানেল ও এশিয়া ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (ACU) ব্যবহার করে বাণিজ্য সম্পাদন, একক চালানে পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে বর্ডার হাট চালু, মায়ানমারের বিশাল আবাদি জমি চাষ করে ফসল আমদানি, বাংলাদেশ-মায়ানমারের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ, মায়ানমার থেকে জল-বিদ্যুৎ আমদানি, তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ সেক্টরে দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া  দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিটিএ গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-মায়ানমার নৌ-প্রটোকল চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। 

    বাংলাদেশের সাথে ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিরাজমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণে নিয়মিতভাবে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের ও ওয়ার্কিং গ্রুপ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


EU-Bangladesh Business Climate Dialogue:   বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ৮টি দেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এবং ৫টি যৌথ চেম্বারের প্রতিনিধিদের সংগে ১৯ মে ২০১৬ তারিখে EU-BD Business Climate Dialogue অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বাংলাদেশের পক্ষে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ প্রায় ২০টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সংশ্লিষ্ট সেক্টর ভিত্তিক ৫টি Working Group গঠন করা হয়। গঠিত Working Group-এর মধ্যে একাধিক বৈঠকে বাংলাদেশে EU-ভুক্ত দেশসমূহের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যের সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করা হয়। অতঃপর ৮ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে EU-BD 2nd Business Climate Dialogue অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ৩য় Dialogue-টি আগামী মে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে। 
    এছাড়াও গত ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে ব্রাসেলসে EU-BD 7th Sub-Group on Trade Development সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় এফটিএ অনুবিভাগ প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল, ERD ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ, অংশগ্রহণ করে।

Cross-border paperless Facilitation: UNESCP এর আয়োজনে ব্যাংকক, থাইল্যান্ডে Frame Work Agreement on Facilitation of Cross Border Paperless Trade in Asia and the Pacific  চূড়ান্ত draft প্রস্তুত করা হয়। উক্ত draft টি চূড়ান্ত করতে Legal Working Group জনাব এ.এইচ.এম সফিকুজ্জামান, উপ-সচিব (FTA-5) এবং মিস রমা দেওয়ান, যুগ্ম প্রধান বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন Technical Working Group এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্তমানে উক্ত Agreement টির party হওয়ায় বিষয় আন্ত:মন্ত্রণালয় Consultation চলমান রয়েছে। এ Agreement-টি কার্যকর হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য আরোও সগজতর এবং দ্রুততর হবে।  


Share with :
Facebook Facebook